বিশেষ প্রতিনিধি :
শেরপুরের চাঞ্চল্যকর অটোরিকশা চালক কাজল হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস পেয়ে শেরপুরের পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলামের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহত অটোরিকশা চালকের স্ত্রী ও সন্তান। গত ২০ জুলাই কাজল হত্যার খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবীতে স্মারকলিপি প্রদানকালে পুলিশ সুপার এ আশ্বাস প্রদান করেন। কাজলের স্ত্রী খৈমালা তার তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে পুলিশ সুপারের নিকট গেলে পুলিশ সুপার আবেগ আপ্লূত হয়ে পড়েন। এসময় তিনি পরিবারটির অসহায়ত্বের কথা শুনে ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে বলেন, পুলিশ আপনাদের পাশে আছে। এ মামলার রহস্য উদঘাটন ও খুনিদের চিহ্নিত করতে পুলিশ অনেকখানি এগিয়েছে। কিছুটা সময় দেন আমরা অবশ্যই এ খুনের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনবো।
পুলিশ ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শেরপুর সদরের রামকৃষ্ণপুর গ্রামে মাত্র এক শতাংশ জমিতে একটি ঝুপড়ি ঘরে স্ত্রী এক কন্যা ও তিন শিশুপুত্রকে নিয়ে বসবাস করতো কাজল মিয়া। কিস্তিতে একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা নিয়ে তা চালিয়ে কিস্তি পরিশোধ ও সংসারের খরচ জুগিয়ে আসছিলো কাজল। এরইমধ্যে দু্র্বৃত্তদের দৃষ্টি পড়ে তার অটোরিক্সার দিকে। সম্প্রতি কাজল তার বড় কণ্যা সন্তানকে বিয়ে দেয়। ৩ জুলাই শুক্রবার কন্যার বাড়িতে তেওরি (আম-কাঁঠাল) নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো কাজলের। সেই টাকা জোগাড় করতেই ২জুলাই সন্ধায় অটোরিক্সা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে কাজল। ওই রাতেই কাজলকে খুন করে ঢাকা শেরপুর মহা সড়কের সাপমারী জোড়াপাম্প এলাকায় একটি ধান ক্ষেতে মরদেহ পুতে রাখে। পরে ৩জুলাই কাজলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এরপর থেকেই কাজলের স্ত্রী সন্তানরা মানবেতর জীবন যাপন করছে।
কাজলের খুনিদের ফাঁসির দাবিতে আজ ২০ জুলাই দুপুরে শেরপুর জেলা শহরে বিক্ষোভ, মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
কাজলের স্ত্রী খৈমালা বলেন, আমার স্বামী মেয়ের বাড়িতে তেওরা (আম কাঁঠাল) নিয়ে যাওয়ার টেহা জোগাড় করবার জন্য অটো নিয়া বাইর হইছিলো। যাবার সময় বইলা গেছিলো, কাছের লোকের সাথে আপ-ডাউন ভাড়া নিয়ে যাইতেছি। এই মস্তুই আমার স্বামীরে মারছে। আমার স্বামীর খুনির ফাঁসি চাই।
কাজলের মা বৃদ্ধা জামেলা বেগম বলেন, আমার পোলারে মস্তু চোরা খুন করেছে। আমি ওর ফাঁসি চাই। ওরে আপনারা ফাঁসি দিবার না পাইলে আমগো হাতে দেন, আমরা বিচার করমু।
এলাকাবাসী এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানায়।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রুকন মিয়া , ও শহিদুল ইসলাম নামে দুই জনকে গত ১৬ জুলাই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদেরকে দশদিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়। জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত আজ ২০ জুলাই রিমান্ডে আবেদনে শুনানিশেষে রুকন মিয়াকে দুই দিন ও শহিদুল ইসলামকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, আমরা গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞেসাবাদ করবো। এছাড়া নানাভাবে আমরা খুনের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ করছি। দ্রুতই রহস্য উদঘাটন হবে ইনশাআল্লাহ।
















